বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ১০:৩০ টার দিকে নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার।
নিহত হাসান আহমেদ ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের ৬৩৪ নম্বর ঘরের বাসিন্দা। তিনি সুলতান আহমেদের ছেলে। তার এমআরসি নম্বর ৩৯২২৫।
এপিবিএন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব বিরোধের জেরে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে হাসানকে ডেকে নেয়। পরে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে তার বুকের ডান পাশে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর অস্ত্রধারীরা ক্যাম্পসংলগ্ন পশ্চিম পাশের পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়।
আহত অবস্থায় স্থানীয় রোহিঙ্গারা হাসানকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পসংলগ্ন জি’কে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, ক্যাম্পের আধিপত্য বিস্তার, মসজিদ কমিটি নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মোচনী রেজিস্টার্ড ক্যাম্প কমিটির এক সদস্য আলোচনার কথা বলে হাসানকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। পরে সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ঘটনার খবর পেয়ে নয়াপাড়া ১৬ এপিবিএনের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হাসানের বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলা, দুটি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা এবং দুটি অপহরণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী বলেন, 'ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'
এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শরণার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম।