নির্বাচনী পথসভায় যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী রশীদ আহমাদের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে আওয়ামী লীগের ভোটারদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে পুনরায় আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেবেন। যেহেতু এবার আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নাই, তাই আপনারা ধানের শীষকে ভোট দেবেন।”
সম্প্রতি হিন্দু অধ্যুষিত ভবদহ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া এই বক্তব্য ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রশীদ আহমাদ আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। বিএনপির শরিক দল হিসেবে তিনি মনোনয়ন পেলেও পরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমীর ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত মুফতি মো. ওয়াক্কাসের ছেলে।
ভাইরাল ভিডিওতে রশীদ আহমাদকে আরও বলতে শোনা যায়, “এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ করে। তারেক রহমানের পিতা মরহুম জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে নিষিদ্ধ সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। আমরা আশা করি দেশনায়ক তারেক রহমান ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগকেও পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ দেবেন।” তিনি যোগ করেন, “যেহেতু এবার আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই, তাই আপনারা ধানের শীষকে ভোট দিন।”
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
জুলাইযোদ্ধা সংগঠনের যশোর জেলা আহ্বায়ক এ বি আহাদ হোসাইন বলেন, “বিএনপির প্রার্থীর বক্তব্য আমরা শুনেছি। এখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হত্যা, গুম ও খুনের বিচার হয়নি। জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের দাগ শুকায়নি। নতুন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার কোনো প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। বিষয়টি নিয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলন করবো।”
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রশীদ আহমাদ বলেন, “আমার বক্তব্যটি ছিল নিরপরাধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে। বিএনপি ও দেশনায়ক তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করেন না। সেই উদাহরণ দিতেই কথাগুলো বলেছিলাম। কিন্তু প্রতিপক্ষরা এটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ভোটের মাঠে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।”