সোমবার (৩০ মার্চ) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, গত রবিবার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে জিন্নাত আরা (২২) নামে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনার পর পুলিশ নিহতের স্বামীর মুঠোফোন জব্দ করে। সেখানে আত্মহত্যার দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরেছিলেন জিন্নাত আরা। এরপর স্বর্ণ বন্ধক রাখা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও তর্কাতর্কি হয়। রবিবার স্বামী বাইরে গেলে জিন্নাত ঘরের ভেতর থেকে দরজা আটকে দেন। এ সময় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্বামী জানালা দিয়ে ঘটনাটি নিজের মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বামী দাবি করেছেন, তিনি স্ত্রীকে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখে ভিডিও ধারণ করেন এবং তাকে নিবৃত্ত করার জন্য চিৎকারও করেছিলেন। তবে কেন তিনি সেসময় স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, 'নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে মামলাটি রেকর্ড করেছে। ভিডিওটি জব্দ করা হয়েছে এবং তা তদন্তের স্বার্থে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।'
নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ঘটনায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পারিবারিক কলহের জেরে এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।