জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সরব হয়ে উঠলে অধিবেশনকক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে।
অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্নটির ধরন নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের পরই বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রতিবাদ শুরু করেন।
একপর্যায়ে সংসদে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং সবাইকে সংসদের নিয়ম মেনে বক্তব্য ও প্রতিবাদ জানানোর পরামর্শ দেন।
স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা যাতে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন, সে সুযোগ দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করার পর বিরোধীদলীয় নেতাকেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
হট্টগোল অব্যাহত থাকলে স্পিকার সংসদ পরিচালনায় সহযোগিতা করার জন্য সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। পরস্পরের বক্তব্য শোনার মানসিকতা না থাকলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্য অব্যাহত রাখেন। নিজের মন্তব্য নিয়ে বিরোধী সদস্যদের আপত্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তার জবাব দেওয়ার সুযোগ তাঁকে দিতে হবে। পাশাপাশি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন স্পিকার।
শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নতুন নয়। সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কথা বলছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে কেউ কারও শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে আসেননি। কারও বক্তব্যে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অপমানিত বোধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংসদের কার্যক্রমের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে প্রত্যেক সদস্যের বক্তব্যে সংযম থাকা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং বিতর্কিত অংশ সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, এ দাবি পূরণ না হলে বিরোধী দলের সদস্যদের পক্ষে অপমান সহ্য করে সংসদে বসে থাকা কঠিন হবে।
এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে সংসদীয় পরিবেশের জন্য অনুপযুক্ত বলে উল্লেখ করেন এবং বিষয়টি স্পিকারের বিবেচনার জন্য তুলে ধরেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস