ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মধ্যেই বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে লোডশেডিংয়ের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে গেছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এনসিপির গণসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, দেশের মানুষ তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে। সেজন্য সরকারের লুটপাট-দুর্নীতির এসব দায়ী। দেশে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ সেটা ৫ মাসে পুরো বাংলাদেশ দেখে ফেলেছে।
নির্বাচিত সরকার আসার পর থেকেই দেশে আইনশৃঙ্খলা খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। বলেন, এমনকি দুর্নীতি বেড়েছে। বাবা-মায়ের দোয়া কমিটি হচ্ছে। সরকারের অব্যবস্থার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার পরও রায় বাস্তবায়ন করেনি তারা। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা এই সরকারকে বিশ্বাসঘাতক বলতে পারি।
এই সরকার জনগণ নয়, ব্যবসায়ী-মাফিয়াদের সরকার বলে মন্তব্য করেন নাহিদ। বলেন, যাদের টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছিল, তাদের হাতে দেশ তুলে দিচ্ছে। যারা নির্বাচনে হেরেছে, তাদের প্রশাসক বানিয়েছে। সকল জায়গায় দলীয়করণ শুরু করেছে। ইউএনওদের সারা দেশে মারধর করছে। তাদের চাপ দিচ্ছে। জনগণ এই সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে। আগামী দিনে আন্দোলন আসছে।
এদিকে, দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আশা করেছিলাম জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচনগুলো সংগঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। বিএনপির আগের ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। জুলাই সনদ অনুযায়ী হলে দেশে যোগ্য রাষ্ট্রপতি দেখতে পেতাম। দলীয় রাষ্ট্রপতি দেখতে পাব, সেটা দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন। তবে গণহত্যার দায়ে যারা ভারতে আছে, প্রেস ব্রিফিং করছে, হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার সেখানে সফরে যান। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেলে দেশের সঙ্গে গাদ্দারি হবে।
অন্যদিকে, দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দেশে ঘরে ঘরে গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে হবে। নতুবা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হলে দেশের সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। ভারতের চোখে চোখ রেখে কাজ করতে হবে। এমনকি ঢাকার দুই মেয়র ও কাউন্সিলর এনসিপি থেকেই হবে।
সদ্য সংবাদ/এসআর