ইন্টারনেটে নতুন শঙ্কা, ব্যান্ডউইথ সংকটে দাম বাড়ার পাশাপাশি কমতে পারে গতি

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১০:০৪
সংগৃহীত

দেশে বাড়ছে ইন্টারনেটের চাহিদা, বিপরীতে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ ধীরগতির। সময়মতো নতুন সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত করা না গেলে ২০২৮ সালের মধ্যেই বড় ঘাটতির আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এতে কমতে পারে ইন্টারনেটের গতি, বাড়তে পারে গ্রাহকের খরচ।

তাদের মতে, নতুন সক্ষমতা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত দ্রুত না এলে ২০২৮ সালের মধ্যেই ব্যান্ডউইথ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ইন্টারনেটের গতি ও সেবার মানে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ।

সোমবার ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে। টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশ (টিআরএনবি) কর্মশালাটির আয়োজন করে।

১৩ বছরে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার বেড়েছে ২৬০ গুণ

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, গত এক দশকের বেশি সময়ে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহারে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৩ সালে মাত্র ৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হলেও ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৭৬ টেরাবিটে। ২০২০ সালে ১ দশমিক ৭৮, ২০২২ সালে ৪ দশমিক ২ এবং ২০২৪ সালে ৬ দশমিক ৮৬ টেরাবিটে পৌঁছায় ব্যবহার।

২০২৬ সালে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ১৩ বছরের ব্যবধানে ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২৬০ গুণ।

সংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চাহিদা ১৯ দশমিক ১ টেরাবিট এবং পরের বছর প্রায় ২৭ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে। ২০৩০ সালে এ চাহিদা ৫৪ টেরাবিট এবং ২০৩৫ সালে ৩০৫ টেরাবিটে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩৬ সালে তা ৪৩২ টেরাবিট ছাড়াতে পারে।

ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি ক্লাউড সেবা, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন শিক্ষা, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং শিল্পখাতের প্রযুক্তিনির্ভরতা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে ব্যান্ডউইথের চাহিদা আরও দ্রুত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর নির্ভরতা

বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের বড় একটি অংশ নির্ভর করছে দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর। এগুলো হলো সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫। সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, ক্যাবল দুটির সক্ষমতা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬ ও ২ দশমিক ৫ টেরাবিট। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবলের মাধ্যমে বিদেশ থেকেও ব্যান্ডউইথ আনা হয়।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সীমিতসংখ্যক সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামোকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তুলনামূলকভাবে ভারত ১৯টি, মালয়েশিয়া ২৩টি, থাইল্যান্ড ১২টি এবং ফিলিপাইন ১৯টি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত।

কোনো ক্যাবলে কারিগরি ত্রুটি, দুর্ঘটনা কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হলে বিকল্প সক্ষমতার ঘাটতির কারণে দেশের ইন্টারনেট সেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় সাবমেরিন ক্যাবল-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ব্যবহারকারীদের ধীরগতির ইন্টারনেটের অভিজ্ঞতাও হয়েছে।

বাংলাদেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৬ চালু হলেও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা মেটাতে এটিও যথেষ্ট হবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের হিসাবে, সি-মি-উই-৪-এর কার্যকাল ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা। ফলে নতুন সক্ষমতা তৈরির কাজ এখনই শুরু করা প্রয়োজন।

বেসরকারি বিনিয়োগে বাড়তে পারে সক্ষমতা

নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিকেও সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রস্তাবিত ক্যাবলগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫১ টেরাবিট অতিরিক্ত সক্ষমতা যোগ হতে পারে। এতে দেশের মোট সক্ষমতা প্রায় ৬৭ টেরাবিটে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাদের মতে, একাধিক অপারেটর ও ক্যাবল যুক্ত হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আসার পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানিনির্ভরতাও কমতে পারে। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে ব্যান্ডউইথের মূল্য কমার সুযোগ তৈরি হবে, যার সুফল গ্রাহকরাও পেতে পারেন।

মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, দেশে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হলে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী হবে। তার দাবি, এর ফলে ইন্টারনেটের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমার পাশাপাশি সেবার মান উন্নত ও ল্যাটেন্সি কমানো সম্ভব হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের সাবমেরিন ক্যাবল খাতের প্রধান প্রতিযোগিতা শুধু অন্য সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির সঙ্গে নয়; আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল বা আইটিসির সঙ্গেও প্রতিযোগিতা রয়েছে।

দ্রুত সিদ্ধান্তের তাগিদ

কর্মশালায় বক্তারা জানান, একটি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। ফলে সংকট প্রকট হওয়ার পর উদ্যোগ নিলে প্রয়োজনীয় সময়ে নতুন সক্ষমতা পাওয়া কঠিন হতে পারে।

টিআরএনবির সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রকল্পপ্রধান মাহমুদ শাহেদ পৃথক উপস্থাপনায় দেশের সাবমেরিন ক্যাবল, ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের গতি ও সেবার মানের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। তাই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগেভাগেই নতুন সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সদ্য সংবাদ/এসকে

জাতীয় ব্রেকিং

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ সদ্য. সিসিইউতে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সদ্য. আজ থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু সদ্য. স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: মীর শাহে আলম সদ্য. ‘শামোন্ডা’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু, ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সদ্য. সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সদ্য. মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. পথের ধারে পিঠা বিক্রি করতে হলেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক সদ্য. উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হলো ভূমিমন্ত্রীকে সদ্য. বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ সদ্য. সিসিইউতে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সদ্য. আজ থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু সদ্য. স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: মীর শাহে আলম সদ্য. ‘শামোন্ডা’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু, ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সদ্য. সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সদ্য. মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. পথের ধারে পিঠা বিক্রি করতে হলেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক সদ্য. উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হলো ভূমিমন্ত্রীকে