পাকিস্তানে ধূমপানের ক্ষেত্রে গত এক দশকে লিঙ্গভেদে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের হার কমলেও একই সময়ে নারীদের মধ্যে এ প্রবণতা বেড়েছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পাকিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ২২ দশমিক ২ শতাংশ ধূমপান করতেন। এক দশক পর ২০২৪ সালে এই হার নেমে এসেছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশে। অর্থাৎ ১০ বছরে পুরুষ ধূমপায়ীর অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তবে নারীদের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৪ সালে দেশটির নারী ধূমপায়ীর হার ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে। সংখ্যাগত ব্যবধান বড় না হলেও বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানে ধূমপানের প্রবণতা কমে আসার যে চিত্র পাওয়া যায়, তাতে নারী ও পুরুষের আলাদা প্রবণতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় না। ফলে তামাক ব্যবহারের প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে লিঙ্গভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের ধূমপান কমানোর ক্ষেত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, সচেতনতা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। বিপরীতে নারীদের মধ্যে ধূমপান বৃদ্ধির পেছনে কী ধরনের সামাজিক বা আচরণগত কারণ কাজ করছে, তা চিহ্নিত করে আলাদা কৌশল নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে পাকিস্তানে তামাক ব্যবহারের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে ‘পাকিস্তান টোব্যাকো ইনসাইটস’ নামে একটি তথ্যভিত্তিক ড্যাশবোর্ড চালু করেছে গ্যালপ পাকিস্তান ডিজিটাল অ্যানালিটিক্স।
ড্যাশবোর্ডটিতে গত ১০ বছরের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ও গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভের তথ্য সংকলন করা হয়েছে। এতে বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী ধূমপানের প্রবণতার পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপান, সিগারেটের দাম এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে মানুষের মতামতের তথ্যও রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব তথ্য পাকিস্তানে তামাক ব্যবহারের ধরন পরিবর্তনের কারণ বুঝতে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক হতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসএস