চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তার অফিসে হামলা চালানো হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন দর্শনা থানা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ অমিন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাদের আটক করা হয়। পরে ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রাতে দর্শনা থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার ও ব্যবসায়ীর অভিযোগ অনুযায়ী, আমদানি করা পাথরের একটি চালানের পণ্য খালাসের কাজ নিয়ে অন্য এক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক বিরোধ তৈরি হয়। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি চক্র তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ রফিকুলের।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতেও ফোন করে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। পরদিন সকালে টাকা না দিলে অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে দর্শনা রেলগেট এলাকায় তার কার্যালয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল ব্যক্তি হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রফিকুল ইসলামের দাবি, হামলার সময় কয়েকজন ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তারা অফিসে ঢুকে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও ফটোকপি মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত করে। তার কক্ষের দরজাও ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় অফিসে থাকা ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং স্বাক্ষর করা দুটি ব্যাংক চেক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ব্যবসায়ী।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। পুলিশ প্রথমে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পরে ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রাইট ও অমিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদা দাবির অভিযোগে আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ বলছে, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে