সাতক্ষীরার আশাশুনিতে আওয়ামী লীগের সাবেক জেলা কোষাধ্যক্ষ রাজ্যেশ্বর দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে আশাশুনি উপজেলার শরাফপুর গ্রামে রাজ্যেশ্বর দাসের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজ্যেশ্বর দাস শরাফপুর গ্রামের মৃত কার্তিক চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি একসময় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিপ বলেন, আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট গ্রামের একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাজ্যেশ্বর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২২ জুন রাতে বিছট গ্রামে যুবদল কার্যালয়ের সামনে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে হামলা চালিয়ে চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। একই ঘটনায় কয়েকটি সাইনবোর্ডও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিছট গ্রামের হায়দার আলী গাজী বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় মামলা করেন। মামলায় আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর আলম লিটন এবং রাজ্যেশ্বর দাসসহ ৭৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারে রাজ্যেশ্বর দাসকে ৪১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজ্যেশ্বর দাস। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে হয়রানি করতে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি কোনো ধরনের হামলা বা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস