ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাংবাদিক দেবাশিস, তার স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী সন্তানসহ কুষ্টিয়ার চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার চারজন হলেন- সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার মো. আকরাম আলী (৬৪)।
নিহত দেবাশিস দত্ত কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি আজকের খবর ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান দেবাশিস। চিকিৎসার প্রয়োজনে কলকাতার পাশাপাশি বেঙ্গালুরুও গিয়েছিলেন তারা।
মঙ্গলবার রাতে বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরেন দেবাশিস ও তার পরিবার। বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই হোটেলের আগুনে তাদের প্রাণহানি ঘটে।
ভ্রমণের বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত তুলে ধরছিলেন দেবাশিস। মৃত্যুর কিছু সময় আগে দেওয়া এক পোস্টে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় ফেরার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।
দেবাশিসের বড় মেয়ে পাখি কুষ্টিয়ায় থাকায় অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে গেছে। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা, মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে সে এখন স্বজনহারা।
চারজনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে দেবাশিসের পরিবার। ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে হারিয়ে শোকে কাতর মা স্বপ্না দত্ত ও বাবা দিলীপ দত্ত। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবারের পরিবেশ।
এদিকে দেবাশিসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা তার আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেবাশিস ছিলেন মেধাবী, পেশাদার ও অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রিপনও শোক প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে এভাবে হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মৃত্যু কুষ্টিয়ার সাংবাদিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি তৈরি করেছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে