কুমিল্লার লাকসামে মাত্র আট মাসে নিজ হাতে সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুরাইয়া জান্নাত নামে এক শিক্ষার্থী। ছাপা অক্ষরের মতো নিখুঁত হাতের লেখায় ৩০ পারার কুরআন মাজিদের ১ হাজার ১২৯ পৃষ্ঠা লিখেছেন তিনি।
সুরাইয়া জান্নাত লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে। তিনি মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি কুরআন মাজিদ হাতে লেখার কাজ শুরু করেন সুরাইয়া। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময় কাজে লাগিয়ে টানা আট মাসের প্রচেষ্টায় আগস্টের শেষ দিকে তিনি পুরো কুরআন লেখার কাজ শেষ করেন। এ সময় প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেছেন তিনি।
সুরাইয়া জানান, সমবয়সীদের অনেকেই যখন মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটায়, তখন তিনি সেই সময়টুকু কুরআন লেখার কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করেছেন। মাদ্রাসার ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে নিয়মিত লিখতেন পবিত্র গ্রন্থটি।
কুরআন লেখার সময় ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলার কথাও জানান এই শিক্ষার্থী। প্রতিবার লেখার আগে অজু করে দরুদ পাঠের মাধ্যমে কাজ শুরু করতেন তিনি।
নিজ হাতে কুরআন লেখার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুরাইয়া বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং রাসুল (সা.)- এর শাফায়াত লাভের আশাতেই তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এই কাজে ছোট ভাই নাহিদ হাসান নিয়মিত উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়েছেন।
ভবিষ্যতে হাদিসের অন্যতম প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘সহিহ বুখারি’ও নিজ হাতে লেখার ইচ্ছা রয়েছে সুরাইয়ার। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি।
মেয়ের এমন অর্জনে আনন্দিত তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই সুরাইয়ার আরবি ভাষা ও লেখালেখির প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। মেয়ের এই উদ্যোগে খুশি হয়ে সৌদি প্রবাসী বাবা নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।
সুরাইয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা। তিনি বলেন, এই বয়সে নিজ হাতে সম্পূর্ণ কুরআন লেখা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে সুরাইয়ার হাতের লেখার নিখুঁততা ছাপা অক্ষরের মতো।
ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরাইয়া জান্নাতকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তার এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে