ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সকালে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে গাড়িটি পুড়ে যায়।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাড়িটিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছালে তাঁদের ধাওয়া করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ।
সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে জড়ো হয়ে দাবি আদায়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। শ্রমিকেরা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে মিরপুর এলাকায় যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনে আবারও যাত্রীসেবা চালু হয়। একই সঙ্গে মিরপুর-১১ থেকে মিরপুর-১০ পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে পোশাকশ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন জানান, গাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে পল্লবী ফায়ার স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি পুলিশের কি না, সে বিষয়ে তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিসহ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি ঘিরে মিরপুরে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর মেট্রোরেল স্টেশন ও সড়কে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরতে শুরু করে।
সদ্য সংবাদ/এসএস