নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এক নারী কর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোশারেফ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. ছাইফ উল্যাহ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন এক নারী কর্মী। এ সময় ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন তার সহযোগীদের নিয়ে ওই কর্মীর ওপর চড়াও হন এবং তাকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্ত মোশারেফ হোসেন বিজয়নগর গ্রামের মৃত ছেরাজুল হকের ছেলে।
ঘটনার একটি ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মোশারেফ হোসেন ওই নারী কর্মীকে পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং তাকে শাসাচ্ছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের মুখে আপত্তিকর মন্তব্যও শোনা যায়।
এ বিষয়ে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. ছাইফ উল্যাহ বলেন, “ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আমার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। সুষ্ঠু বিচার ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা মোশারেফ হোসেন। তিনি বলেন, “আমি কাউকে হেনস্তা করিনি। ওই নারী কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন—আমি শুধু তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছি। ওই সময় কেউ ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।”
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী পৌরসভা অংশের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বিমলেন্দু কিশোর পাল জানান, এখনো তিনি লিখিত অভিযোগ হাতে পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে, বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও লিখিত অভিযোগ এখনো পৌঁছায়নি।