বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) চরলাপাং গ্রামের বাসিন্দা নাজির মিয়া (৬০) বাদী হয়ে নবীনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলার নাছিরাবাদ বালু মহালের ইজারাদার সাহেবনগর (নাছিরাবাদ) গ্রামের শাখাওয়াত হোসেন পায়েল (৪২) কে। তবে এ মামলায় একই গ্রামের রিপন মিয়া (৪২) কে ২ নম্বর এবং মাসুম মিয়া (৪৫) কে ৩ নম্বর আসামি করা হলেও বাকি ২৮ জন আসামির বাড়ি পাশ্ববর্তী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নাছিরাবাদ বালু মহালের ইজারাদারের সশস্ত্র লোকজন ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের নদী-তীরবর্তী চরলাপাং এলাকায় ড্রেজার দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কাটতে যায়। এ সময় গ্রামবাসী বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর গুলি ছোঁড়ে। এতে ঘটনাস্থলে অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. এম এ মান্নান পরিদর্শন করে গণশুনানি করেন। গণশুনানিতে অবৈধ বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান, নবীনগর থানার (ওসি) রফিকুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে জনসভা শেষে কয়েক ঘণ্টা না যেতেই মঙ্গলবার রাতেই চরলাপাং গ্রামে আবারও সশস্ত্র মহড়া দেয় বালু সন্ত্রাসীরা। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে ৩১ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
সদ্য সংবাদ/মমিনুল হক রুবেল