ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইউপি সদস্য জিতু মেম্বার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের ধরমন্ডল গ্রামের মেম্বার জিতু ও ফকির মিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ওয়ার্ড মেম্বার জিতু গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ধরমন্ডল এলাকা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ থামায়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।