জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা–১০ আসনের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। মোবাশ্বের আলমের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান শিহাব।
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ঋণখেলাপি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি স্বতন্ত্র নাকি দলীয় (বিএনপি) প্রার্থী—তা মনোনয়নপত্রে স্পষ্ট করেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি তা দেননি। আবার দলীয় প্রার্থী হলে সংশ্লিষ্ট দলের মনোনয়নের কোনো প্রমাণও দাখিল করেননি। এসব কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন, যা ইসিতে আপিলের পরও বহাল থাকে।
তিনি আরও বলেন, পরে ইসির ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। রিটে তিনি দেখান, তাঁর ঋণখেলাপির বিষয়টি পুনঃতফসিল করা হয়েছে এবং বিএনপি তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে। এসব বিবেচনায় হাইকোর্ট তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা–১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া। তাঁর মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করলেও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে একই আসনের প্রার্থী কাজী নুরে আলম সিদ্দিকি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি।
এরপর ইসির ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট করলে গত ২২ জানুয়ারি হাইকোর্ট সরাসরি তা খারিজ করে দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন গফুর ভূঁইয়া, যা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।