বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের জন্য বিএনপি একাধিক বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সরকার গঠন করতে পারলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, জনগণকে ধোঁকা দিয়ে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ রাজনীতিবিদদের শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছেই ফিরে যেতে হয়।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজি ফুলতলী মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “গত দুই দিন ধরে আমি আমাদের পরিকল্পনাগুলোর কথা বারবার বলছি। কারণ বিএনপি সরকার গঠন করলে এই পরিকল্পনাগুলোই বাস্তবায়ন করতে চায়। কিন্তু কিছু দল আছে, যারা দেশের মানুষকে ধোঁকা দিতে চায়। প্রশ্ন হলো—মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কী লাভ? আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, দিন শেষে আমাদের তাদের কাছেই ফিরে আসতে হবে।”
তিনি বলেন, বিএনপি আল্লাহর রহমতে একাধিকবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে এবং দেশ পরিচালনায় দলটির বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। “কোনো পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করতে হয় এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, বিএনপি তা ভালোভাবেই জানে,”—বলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি ঘরে একটি করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের মা-বোনদের কিছু আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা কখনোই বলিনি যে সংসারের সব খরচ সরকার বহন করবে। আমরা বলেছি, অন্তত সাত দিনের ব্যয়ভার সরকার থেকে সহযোগিতা হিসেবে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি একসঙ্গে সবার জন্য চালু করা হবে না; ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। “সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে অল্প অল্প করে আমরা এগোবো,”—বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই সময়ের মধ্যে যত বেশি সংখ্যক মা-বোনের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটিই বিএনপির লক্ষ্য। “এটা একেবারে সোজা কথা, এর মধ্যে কোনো মারপ্যাঁচ নেই,”—যোগ করেন তিনি।
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এসব পরিকল্পনা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন, তারা আসলে মানুষের জন্য এমন কোনো কার্যকর বিকল্প দিতে পারেননি। “দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা এ ধরনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারছে না,”—বলেন তারেক রহমান।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে চায় এবং এজন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের কাছে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমি যদি মানুষকে ধোঁকা দিই, তাহলে ক্ষতি আমারই। কারণ জবান না রাখলে মানুষ ভবিষ্যতে আর আমাকে বিশ্বাস করবে না।”
প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আমি চাইলে এই মঞ্চ থেকে প্রতিপক্ষদের সমালোচনা করতে পারতাম। কিন্তু জনগণ এখন জানতে চায়—আমি ক্ষমতায় গেলে কী করব। অন্যের সমালোচনা করলে আপনাদের পেট ভরবে না।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াসহ দলীয় নেতারা।