সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট যদি ইরানে স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা দিতে চেচেন যোদ্ধারা সরাসরি রণাঙ্গনে নামতে প্রস্তুত।
বর্তমান সংকটের সূচনা ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান পরমাণু আলোচনার সময়। ওই সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এরপর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং তা এখন ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
কাদিরভপন্থী যোদ্ধারা বলেছে, তারা এই সংঘাতকে ‘শুভ ও অশুভের লড়াই’ হিসেবে দেখছে এবং ইরানকে রক্ষা করা তাদের আদর্শিক দায়িত্ব। উল্লেখ্য, এই বাহিনী এর আগে ইউক্রেনসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার পক্ষে অংশ নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
এদিকে, চলমান সংঘাতে ইউক্রেনের সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি এক চিঠিতে আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন এই অঞ্চলে ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ পাঠিয়েছে।
ইরানের দাবি, ইউক্রেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন সামরিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হস্তক্ষেপ যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে মিনাবে সাম্প্রতিক হামলায় ১৭০ জনের বেশি স্কুলশিক্ষার্থীসহ বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানি জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চেচেন যোদ্ধাদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির খবর এই সংঘাতকে দুই দেশের সীমা ছাড়িয়ে একটি বৃহত্তর প্রক্সি যুদ্ধে রূপ দিতে পারে। এখন বিশ্ব সম্প্রদায় নজর রাখছে—যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানে যায় কি না এবং চেচেন বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয় কি না।