সোমবার (৪ মে) প্রকাশিত দেশটির সর্বশেষ মহামারি বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১০১ জন হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৭। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেই নতুন করে ৪২টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সংক্রমণের হার নির্ধারিত ‘আউটব্রেক থ্রেশহোল্ড’ অতিক্রম করেছে এবং পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতাই এই সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
দীর্ঘ খরা এবং পরবর্তী সময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ইঁদুরজাতীয় প্রাণী খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি বন উজাড় ও বন্য পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ বৃদ্ধিকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়া বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। এর মধ্যেই গত মার্চে ডব্লিউএইচও থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আর্জেন্টিনা সরকার।
গত বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, প্রমোদতরির সংক্রমণ ঘটনাকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে ডব্লিউএইচও আর্জেন্টিনার সার্বভৌম সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এ ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে মহামারি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ কার্যক্রম চালু রয়েছে। যদিও ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ সংক্রমণের প্রকৃত উৎস এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে নিজেদের সক্ষমতার মাধ্যমেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ প্রোটোকল চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশল প্রণয়নের কাজও চলছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড