এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের একটি ব্যাগ ও কিছু জামাকাপড় উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো পলাতক ফোরকান মিয়ারই। এর একদিন পর পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন ফোরকান। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছিল।
গত ৮ মে দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন: ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তাদের তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল মিয়া।
পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান প্রায় এক বছর আগে রাউতকোনা গ্রামের ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৯ মে সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে নিহতদের মরদেহ দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। স্ত্রী শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। আর রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।
ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহের পাশে কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পায় পুলিশ। সেই কাগজ সূত্রে ধরে জানা যায়, ফোরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। সেখানে তার স্ত্রী পরকীয়া করছেন বলেও অভিযোগ করে ফোরকান।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।