চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নগরী ও আশপাশের এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও বিভিন্ন উপজেলায় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) দায়িত্ব পালন করছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীতে টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াসার পানি সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে এবং নগরবাসী পানির সংকটে পড়েছে।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার অঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে কৃষি সেচ ব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে এবং শ্রমিকদের কাজের পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রামে মোট ২৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে জ্বালানি সংকটে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকটি ইউনিট এবং রাউজানসহ একাধিক গ্যাসচালিত কেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল চট্টগ্রামে অফ-পিক সময়ে চাহিদা ছিল ১৩৮৪ দশমিক ৯ মেগাওয়াট এবং পিক সময়ে ১৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং ছিল যথাক্রমে ১১১ ও ১৭০ মেগাওয়াটের বেশি, তবে বাস্তবে তা ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে সাধারণত বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। এই সময়েই লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নগরীর পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। এতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কালুরঘাট শিল্প এলাকার একটি গার্মেন্টস কারখানার মালিক জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার ও শনিবার নগরীর অর্ধেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়। যদিও কর্তৃপক্ষ এটিকে উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ বলে উল্লেখ করলেও গ্রাহকরা এটিকে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের আড়াল হিসেবে দেখছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পবিস-১ এর আওতাধীন আট উপজেলাতেও পরিস্থিতি একই রকম। এসব এলাকায় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক জানান, জ্বালানি সংকট ও কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে পিক ও অফ-পিক উভয় সময়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সূত্র: যুগান্তর