জেলা জামায়াতের আমীর ও লক্ষ্মীপুর-২ (সদর আংশিক ও রায়পুর) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমীন ভূঁইয়া বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় বিএনপি হতাশ হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, মাঠে ভোট না থাকায় তারা দিশেহারা আচরণ করছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত নেতা-কর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল আমীন ভূঁইয়া।
তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির লোকজন ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে নারী ভোটারদের অনুসরণ করছে এবং ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা ও হুমকি দিচ্ছে। জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
রুহুল আমীন ভূঁইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দার বাজারসংলগ্ন একটি বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারণা চালাতে গেলে স্থানীয় বিএনপির লোকজন বাধা ও গালমন্দ করে। খবর পেয়ে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ঘটনাস্থলে গেলে ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে সদর উপজেলা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন বলেন, সেখানে মারামারির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় একটি ঘরে জামায়াতের কিছু নারী কর্মী অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরসহ কয়েকজন এসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়, তবে কেউ আহত হয়নি।
জামায়াতের পক্ষ থেকে আহত হিসেবে যাঁদের নাম জানানো হয়েছে, তাঁরা হলেন বশিকপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মাইনুদ্দিন, কর্মী আবু তৈয়ব, যুব বিভাগের ওয়ার্ড সেক্রেটারি মো. তারেক, জুয়েল হোসেন, রিয়াদ হোসেন ও রুবেল।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য পোদ্দার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।