গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, জমি দখল, ঘুষ, জালিয়াতি ও দালালচক্রের একচেটিয়া আধিপত্য চলছে বলে ভূমি সেবাপ্রার্থী ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ২৮টি অভিযোগ উঠে এসেছে।
অভিযোগগুলোর ন্যায়সঙ্গত তদন্ত না হওয়ায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে পুনঃতদন্ত ও শুনানির দাবিতে আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া আবেদনে জানানো হয়, রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী মনিরুজ্জামান মনির, বর্তমান নায়েব (ভূমি সহকারী কর্মকর্তা) এম. এ. মান্নান, সাবেক নায়েব মো. নূর এ আলম, মো. সোলায়মান সরকার, মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার ও একাধিক দালালের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে শ্রীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করা হলেও শুনানি ও তদন্ত প্রক্রিয়া সন্তোষজনক ও ন্যায়সঙ্গত হয়নি বলে আবেদনকারীরা দাবি করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অফিসের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ব্যাটারি, ভবনের টিন থেকে শুরু করে অফিস কাচারিবাড়ির পড়ে যাওয়া কাঁঠাল ও মেহগনি গাছের কাঠ পর্যন্ত চুরি ও আত্মসাৎ করা হয়েছে।
খাস জমি থেকে মাটি কাটার অনুমতি ঘুষের বিনিময়ে দেওয়া, সরকারি গোচারণ জমি অবৈধ দখলকারীদের বহুতল ভবন নির্মাণে সহায়তা এবং তফসিলভুক্ত সরকারি অর্পিত সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া রেকর্ডে জমির শ্রেণি পরিবর্তন (যেমন: রাস্তা বা বর্ষা জমি দেখিয়ে বাইদ বা পুকুর দেখানো), আদালতের রায় বা সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই সরকারি জমি নামজারি, একই জমি একাধিক ব্যক্তির নামে নামজারি, এমনকি জোতে জমি না থাকলেও টাকার বিনিময়ে নামজারি সম্পন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
চলমান আদালতের মামলা উপেক্ষা করে নামজারি, ভুয়া ব্যক্তির নামে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর ও শ্রেণি পরিবর্তনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। সেবার নামে হয়রানির অংশ হিসেবে শুনানিতে এক পক্ষকে পক্ষপাতিত্ব করা, উচ্চস্বরে গালাগালি, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার এবং শারীরিক হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় দালাল শহিদুল ইসলাম খান, বাদল, সেলিম, সাইফুল ইসলাম, কম্পিউটার অপারেটর নয়নসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনকারী মো. জহিরুল ইসলাম এলাকাবাসীর পক্ষে দাবি করেন, এই দুর্নীতির ছোবলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারি সম্পত্তি লুটপাট করা হচ্ছে। তিনি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি প্রাপ্তির পর প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় শিগগিরই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।