সহকর্মী ও চিকিৎসকরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি বান্দরবান ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে তার মধ্যে বমি, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট ও খিচুনির মতো জটিল উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
সিভাসুর অধ্যাপক শিরিন আকতার বলেন, 'শনিবার রাতে জুথির জ্বর শুরু হয়। রোববার অবস্থার অবনতি হলে রাতে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে সেখানে শয্যা না পাওয়ায় পরে তাকে নগরীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হয়।'
তিনি বলেন, 'সোমবার ভোরে ড. জুথির তীব্র খিচুনি শুরু হয়। তখন তার হাত-পা বাঁকা হয়ে যায় এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।'
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রথমে ম্যালেরিয়ার আশঙ্কা করা হলেও পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে। পরে এমআরআই রিপোর্টে তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাওসারুল আলম জানান, রোগীর জ্বর, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত শারীরিক অবনতি এবং মস্তিষ্কের ক্ষতির ধরন দেখে চিকিৎসকদের ধারণা হয়, তিনি জাপানিজ এনকেফেলাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।
তিনি বলেন, 'রোগীর বান্দরবান ভ্রমণের ইতিহাস ছিল। তাই শুরুতেই ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করা হয়। তবে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।'
পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বান্দরবান ভ্রমণের কারণে মশাবাহিত কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ম্যালেরিয়া নাকি জাপানিজ এনকেফেলাইটিস, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট সব রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে।'
ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী অধ্যাপক শাহরিয়ার হাসেম অর্ণব বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।