পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওমরা পালন করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় ফাইজা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে সৌদি আরবের আবহা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তার বাবা মিজানুর রহমান (৪০), মা মেহের আফরোজ সুমী (৩০), বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহ। একই ঘটনায় গাড়িচালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর-ও প্রাণ হারান। এতে গুরুতর আহত হয় ফাইজা।
পরিবারটির বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নর পাঁচরুখি গ্রামে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। ওমরা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতিকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর রাতে স্বজনদের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসে ফাইজা। বর্তমানে সে নানাবাড়িতে অবস্থান করছে। এলাকাবাসী প্রতিদিনই তাকে দেখতে ভিড় করছেন।
নিহতের ভাই বাহারুল আলম জানান, চারজনের মরদেহ এখনো সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেগুলো দেশে আনতে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। এত অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে মরদেহগুলো সেখানেই দাফন করতে হতে পারে।
ফাইজার মামা মামুন হোসেন বলেন, 'মরদেহ দেশে আনতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করছি আমরা।'
স্বজনদের একমাত্র আশা—মানবিক সহায়তায় দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের শেষ বিদায় সম্পন্ন করা যাবে। আর এদিকে ছোট্ট ফাইজা এখনো অপেক্ষায়—হাসপাতাল থেকে বাবা–মা ও বোনেরা কবে ফিরে আসবেন।