সমাবেশে স্থানীয় সমাজসেবক ফিরোজ মিয়া বলেন, 'গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সকল ধরনের ঝগড়া-বিবাদ পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল আমাদের গ্রাম। তবে গত চার বছর ধরে আউয়াল ভাইয়ের সহযোগিতায় উন্নয়নের একটি ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে।'
আলেম সমাজের পক্ষে গ্রামের বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা সাজিদ বিন নূর বলেন, 'ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।'
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামসুল হক বলেন, 'গ্রামের মানুষের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে অনেকেই স্বেচ্ছায় নিজেদের জমি দিয়ে রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন। যদিও কিছু পরিবার এখনো বিরোধিতা করছে, তবুও আমরা আশাবাদী—ঐক্যের মাধ্যমে সব বাধা দূর করে গ্রামকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।'
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল আউয়াল অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি বলেন, 'একসময় আমাকে এই গ্রাম ছাড়তে হয়েছিল। দীর্ঘদিন আমার বাবা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ও হামিদ সাহেব গ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। গত চার দশকে অন্তত ১০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার পেছনে ছিল পারস্পরিক হিংসা ও অহংবোধ। মতানৈক্যের কারণে মানুষ একসাথে বসবাস করতে পারেনি—এমনকি কখনও কখনও কবরস্থানে রাত কাটানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'গত এক দশকে উরখলিয়াসহ মনিরপুর, ভৈরবনগর ও বিদ্যাকুট এলাকায় প্রায় ২১ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে সরকারি সহযোগিতায় সড়কের পাশে ব্লক স্থাপন করা হয়েছে। আমি কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই—শুধু মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।'
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা গ্রামের শান্তি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
গ্রামবাসীর আশা, এই জনসমাবেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিভেদ দূর হয়ে উরখলিয়া গ্রামে নতুন করে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথ সুগম হবে।
সদ্য সংবাদ/মমিনুল হক রুবেল