কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব ও সাবেক সভাপতি হায়দার আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং কয়েক কোটি টাকার ‘পদ বাণিজ্যের’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগে অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব ও সাবেক সভাপতি হায়দার আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং কয়েক কোটি টাকার ‘পদ বাণিজ্যের’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগে অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে কোনো জোরালো ভূমিকা না থাকলেও ৫ই আগস্টের পর হায়দার আলী ও তার অনুসারীরা উলিপুরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
দুদকে দাখিলকৃত অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:- চেয়ারম্যান ও কমিটি বাণিজ্য: উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান বানানোর প্রলোভনে ৩-৪ লক্ষ টাকা করে নিয়েছেন।
এছাড়া, এরশাদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ১৫-২০ লক্ষ টাকা এবং আবুল চেয়ারম্যানকে বিএনপিতে ভেড়ানোর নামে ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
- চাঁদাবাজি ও লুটপাট: আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও এন এস আমিন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে ৩ লক্ষ টাকা করে এবং ব্যবসায়ী উজ্জ্বল কর্মকারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি তার বাড়ির পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ লক্ষ টাকার জিরা লুট এবং তবকপুর আনিস উকিলের বাড়িঘর ভাঙচুরের সাথে তার ক্যাডার বাহিনী সরাসরি জড়িত বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ
- দখলদারিত্ব: বালু মহাল থেকে ২০ লক্ষ টাকা ও তিস্তা আন্দোলনকে পুঁজি করে ২০ লক্ষ টাকা আদায়সহ এলএসডি গোডাউন ও ওএমএস ডিলারশিপ নিজের প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়দের মাধ্যমে দখলে নিয়েছেন। গুণাইগাছ ভারত পাড়া এলাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা আদায় ও দুটি হিন্দু পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
- অদ্ভূত চুরির অভিযোগ: অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হায়দার আলী নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের দুটি অস্ট্রেলিয়ান গাভী চুরি করে নিজ বাড়িতে নিয়ে জবাই ও বিক্রি করেছেন।
উলিপুরের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, হায়দার আলীর এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা বোধ করছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত এই ‘হায়দার সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিয়ে তার অবৈধ সম্পদের তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
দুদকে দায়ের করা এই অভিযোগের পর উলিপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।