বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পিরোজপুরের পাঁচানি, খাসেরগাঁও ও ছোট কোরবানপুর গ্রামে সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষে অভিযুক্তরা পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন, ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়া এবং পাঁচানি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদ। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই তিনজনের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল।
পাঁচানি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, 'মনির মেম্বার ও রাসেল মিয়া মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। আমরা প্রতিবাদ করলে তারা তিন শতাধিক লোক নিয়ে আমাদের গ্রামে হামলা চালায়। বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আমাদের ১০-১২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেকে মসজিদের ছাদে উঠলেও সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং মসজিদের কাঁচ ভেঙে ফেলা হয়।
অন্যদিকে ছোট কোরবানপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, 'হামিদ মিয়া আমাদের বিরুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। সকালে আমাদের ছেলে-মেয়েদের নদীতে মারধর করা হয়, এরপর সংঘর্ষ শুরু হয়।'
পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আমরা গত সপ্তাহে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। মনির মেম্বার ও রাসেল মিয়া সমাধানে রাজি হলেও হামিদ মিয়া রাজি হননি। সংঘর্ষের পর দোকান ও বাড়িঘরের ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা গেছে।'
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিবুল্লাহ বলেন, 'পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'