সাতক্ষীরায় ফেসবুক পেজের পরিচয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সংবাদ সংগ্রহের কার্ড পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবু মুহিত গাজী। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সংবাদ সংগ্রহের কার্ড বিতরণে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। পেশাদার সাংবাদিকদের পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতা ও ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ায় এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টাঙানো তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একাধিক অপেশাদার ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বৈধ কার্ড সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে তালা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু মুহিত গাজী ‘এ ওয়ান’ নামের একটি অনিবন্ধিত ফেসবুকভিত্তিক টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয়ে কার্ড পেয়েছেন। পাশাপাশি ‘আপন বাংলা’ নামের একটি স্থানীয় ফেসবুক পেজ এবং নিবন্ধনহীন ‘গাঙচিল টিভি’ ও ‘এনএএন টিভি’র কর্মীরাও সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি পেয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সাতক্ষীরায় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রায় এক হাজার দুই শত জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে সাত শত একানব্বই জনকে সংবাদ সংগ্রহের কার্ড দেওয়া হয়।
যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কার্ড বিতরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দৈনিক জনবাণী পত্রিকার সংবাদকর্মী এমডি রায়হান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যখন পেশাদারিত্বের কথা বলছে, তখন সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক নেতা ও ফেসবুক পেজ পরিচালনাকারীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে এটি অপমানজনক। নীতিমালা উপেক্ষা করে কীভাবে এসব কার্ড ইস্যু করা হলো, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের মতে, প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে কার্ড সংগ্রহ করেছেন, যা সুষ্ঠু সাংবাদিকতা ও নির্বাচনের নিরপেক্ষ পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার বলেন, তাদের কাছে একটি নির্দিষ্ট চেকলিস্ট ছিল। সেখানে অনুমোদিত জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের তালিকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলেই কার্ড দেওয়া হয়েছে। আবেদন বেশি হওয়ায় অনেক আবেদন বাতিলও করা হয়েছে।