পর্দার আড়ালে ইরানের দুর্ধর্ষ বাহিনী সাবেরিন ও নোহেদ

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩০
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত ‘কুদস ফোর্স’-এর নাম প্রথমে আসে। দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে এই বাহিনীর গুরুত্ব অস্বীকারযোগ্য নয়। তবে স্বল্পমেয়াদী সংঘাত বা হঠাৎ অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে অন্য বিশেষ বাহিনীর মধ্যে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের নজরের বাইরে থাকে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দ্বীপ, বন্দর বা কৌশলগত স্থাপনায় হঠাৎ হামলার প্রয়োজন পড়লে কুদস ফোর্স নয়, বরং ইরানের বিকেন্দ্রীকৃত বিশেষ বাহিনী এগিয়ে আসে। এই বাহিনী একক কোনো এলিট ফরমেশনের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) স্থল বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো ‘সাবেরিন’। এটি কোনো একক ইউনিট নয়, বরং বিশেষ সক্ষমতার নাম যা ইরানের বিভিন্ন আঞ্চলিক ইউনিটে ছড়িয়ে আছে। দুর্গম ভূখণ্ডে অভিযান, হেলিকপ্টার থেকে অবতরণ এবং হঠাৎ হামলায় এরা পারদর্শী। পশ্চিমা বিশেষ বাহিনীর মতো অপারেশন শেষ হবার পর এরা ফিরে যায় না, বরং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সেখানে অবস্থান করে।

আইআরজিসির বাইরে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী বা ‘আর্তেশ’-এরও নিজস্ব বিশেষ বাহিনী আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ৬৫তম এয়ারবর্ন স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেড, বা ‘নোহেদ’। তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সরাসরি অ্যাকশনে দক্ষ। ২০১৬ সালে সিরিয়ায় এদের মোতায়েন প্রমাণ করেছে যে, প্রয়োজন হলে ইরান তার নিয়মিত সেনাকেও বিদেশে ব্যবহার করতে সক্ষম।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বজায় রাখতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর বিশেষ শাখা ‘এসএনএসএফ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমুদ্রবক্ষে জাহাজ জব্দ করা বা কৌশলগত জলসীমায় বাধা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে এই ডুবুরি ও উভচর বাহিনী কার্যকর। উপসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে এদের স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে।

নিবন্ধে আরও উল্লেখ আছে ‘বাসিজ’ বাহিনী-এর। যদিও সাধারণত এরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ব্যবহৃত হয়, তবে ‘ফাতেহিন’ ইউনিটের মতো অংশ বিশেষ প্রশিক্ষিত এবং সিরিয়ার যুদ্ধেও সক্রিয় দেখা গেছে। বড় কোনো সংকটে এরা স্থানীয় তথ্য সরবরাহ ও অতিরিক্ত জনবল দিয়ে মূল বাহিনীকে সহায়তা করে।

ইরানের এই বিশেষ বাহিনীগুলো পশ্চিমা ‘সিল টিম সিক্স’ বা ‘ডেল্টা ফোর্স’-এর মতো একক ব্রান্ড নয়। এটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যা আক্রমণ প্রতিহত করতে স্তরে স্তরে কাজ করে। প্রথমে স্থানীয় বাসিজ ও আইআরজিসি ইউনিট পরিস্থিতি সামলায়, এরপর সাবেরিন বা নোহেদ-এর মতো উচ্চতর প্রশিক্ষিত বাহিনী পাল্টা আঘাত হানে। যদিও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এদের কার্যক্রম কম আলোচনায় আসে, তাদের ছড়িয়ে থাকা এবং জটিল সাংগঠনিক কাঠামো এই বাহিনীর কার্যক্রমকে ব্যাহত করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সদ্য. প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ.লীগ ও যুবলীগপন্থী কর্মকর্তারা সদ্য. সাইবার হামলার আশঙ্কা, সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম সদ্য. স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪৬ সদ্য. বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় কারাগারে সাবেক ওসি ও এসআই সদ্য. হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ সদ্য. ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতা সদ্য. শাহজালাল বিমানবন্দরে প্যান্ট-অন্তর্বাস থেকে ২৪ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার সদ্য. শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে কুবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং সদ্য. গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সদ্য. প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ.লীগ ও যুবলীগপন্থী কর্মকর্তারা সদ্য. সাইবার হামলার আশঙ্কা, সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম সদ্য. স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪৬ সদ্য. বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় কারাগারে সাবেক ওসি ও এসআই সদ্য. হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ সদ্য. ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতা সদ্য. শাহজালাল বিমানবন্দরে প্যান্ট-অন্তর্বাস থেকে ২৪ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার সদ্য. শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে কুবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং