সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত চায়না খাতুন ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপ এবং হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হলে রাজা গ্রুপের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে চায়না খাতুন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। হামলার সময় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। ইসলাম প্রামাণিক অভিযোগ করেন, তার ভাগ্নে ফরহাদকে মারধরের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষ রাফিউল ইসলাম রাজার নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা চালানো হয় এবং তাদের গুলিতেই চায়না খাতুন নিহত হন।
অন্যদিকে, রাফিউল ইসলাম রাজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না; একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। তাকে জড়াতে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই নারী স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, আগের রাতের বিরোধের জেরে সোমবার সকালে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে বাজারে যেতে বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।