ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণা জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর অংশ হিসেবে সোমবার কুষ্টিয়া জেলায় জনসভার মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের প্রচারণা শুরু করে দলটি। নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
শফিকুর রহমান বলেন, দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রের পরিবর্তন না হলে দেশের কল্যাণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে গত ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় গেছে, তারা সবাই একই ধরনের কাজ করেছে এবং দেশকে তছনছ করে দিয়েছে। এসব শক্তির চিন্তাধারা ও চরিত্র বদলানো ছাড়া ভালো কিছু অর্জন করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একটি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি ও চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে কিছু লোক। কুষ্টিয়ার চালকল ও পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধ খাজনা আদায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চালের ট্রাকপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা নেওয়ার তথ্য তাদের জানা আছে। বিভিন্ন স্ট্যান্ড দখলের প্রতিযোগিতা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এসব করছে, তারা যেন ফিরে আসে। মানুষ তাদের ঘৃণা করছে এবং অভিশাপ দিচ্ছে।
চাঁদাবাজদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সংসারের অভাব-অনটনের কারণে কেউ যদি এসব কাজে জড়ায়, তাহলে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন, তা ভাগ করে খেতে তারা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মানুষকে কষ্ট না দিতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নির্মূলের ওপর গুরুত্ব দেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের দূরে ঠেলে না দিয়ে বরং ভালো কাজে যুক্ত করা হবে।
বক্তব্যের শুরুতে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে দেশের তরুণেরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। শাসকেরা ফাহাদ ও হাদিদের বিদায় করলেও তাদের রক্তে আজ হাজারো বিপ্লবী তৈরি হয়েছে। গত ১৭ বছর গুমের শিকার পরিবারগুলো সবচেয়ে বড় মজলুম উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে জাতি মায়েদের সম্মান করতে পারে না, তারা বিশ্বব্যাপী অপমানিত হয়। জামায়াত এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে সবার হাতে সম্মানের কাজ থাকবে।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের সব সেক্টরে পরিবর্তন আসবে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সরকার কুষ্টিয়া চিনিকল পুনরায় চালু করবে। তরুণ প্রজন্ম ও নারীরা পুরোনো ও বস্তাপচা রাজনীতি আর ফেরাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, নারীদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার রাজনীতি তারা করে না। নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ ও কর্মস্থল নিশ্চিত করা হবে এবং বড় শহরগুলোতে আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হবে, যাতে নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।
নির্বাচনী জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আমির আমজা, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন আহমেদসহ অন্য নেতারা।