শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে ডিবির এসআই মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ সদর থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কায়েস আকন্দ।
নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া (৪০) বেলাব উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বেলাব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাজনাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি এলাকায় একটি পোল্ট্রি খামারের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: নেত্রকোনার মদন থানার ফতেপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে প্রমন তালুকদার ওরফে প্রিমন (২১) এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার কায়েস্থপল্লী গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম (৪৫)।
গোয়েন্দা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ পোল্ট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর আজিমুল নিখোঁজ হন। পরদিন বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তার ভাগিনা মো. উমর ফারুক বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে বাজনাব ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেফাজত থেকে চোরাই মুরগি বিক্রির নগদ ৪ লাখ টাকা এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন আগে আজিমুল তার পোল্ট্রি খামারে ওই দুইজনকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেন। আজিমুল নিখোঁজের পর থেকেই তারা খামার থেকে উধাও ছিলেন এবং খামারের সব মুরগিও নিখোঁজ ছিল।
ডিবির ওসি মো. আবুল কায়েস আকন্দ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খামারের মুরগি বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই আজিমুল কাদের ভূঁইয়াকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বেলাব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং আদালতে পাঠানো হবে।