চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদির বাবা মোশারেফ হোসেনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মোশারেফ হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামে ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে রাতে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
লিখিত অভিযোগে মোশারেফ হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নারী কর্মী হোসনাবাদ গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে তিনি তাদের সহযোগিতা করছিলেন। বেলা ১২টার দিকে তারা তার বাড়ির সামনের সড়কে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে বিএনপি সমর্থকদের একটি মিছিল আসে। সড়কটি সরু হওয়ায় জামায়াতের নারী কর্মীরা সরে যেতে পারেননি। মিছিল এগিয়ে আসলে তিনি বাধা দিলে কয়েকজন বিএনপি নেতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। একই সঙ্গে জামায়াতের নারী কর্মীদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয় এবং তাদের ছবি তোলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে জামায়াতের এক সভায় দেওয়া বক্তব্যের জের ধরে এই হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন মোশারেফ হোসেন।
অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ স্থানীয় নেতাদের বরাত দিয়ে বলেন, মোশারেফ হোসেন নিহত সাংবাদিক হাসান মেহেদির মৃত্যুকে ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গা থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে টাকা পেয়ে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। ঘটনাস্থলে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্নও নেই। নির্বাচনী ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এটিকে জামায়াতের রাজনৈতিক অপকৌশল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার বক্তব্য শোনা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।