নোয়াখালী-৩ আসনের বেগমগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দিলে ভোটারদের চিহ্নিত করে এলাকাছাড়া করার হুমকির অভিযোগে এক বিএনপি নেতাকে শোকজ করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত নেতা মির জুমলা মিঠু নোয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলুর পক্ষে ভোট কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।
আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের একটি উঠান বৈঠকে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, যারা স্থানীয় জামায়াতের ভোট করে, তাদের চিহ্নিত করে রাখতে হবে এবং তাদের জবাব আদায় করা হবে। এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না—এটাই তাদের স্পষ্ট বক্তব্য বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়।
ভিডিওটি নজরে আসার পর বেগমগঞ্জ নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি মির জুমলা মিঠুকে শোকজ করে। মঙ্গলবার অভিযুক্ত নেতা শোকজের জবাব দিয়েছেন।
বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার জানান, শোকজের জবাব পাওয়া গেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগকারীদের পক্ষের সাক্ষীদের ডাকা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মির জুমলা মিঠুর সঙ্গে গণমাধ্যম থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদেবার্তার মাধ্যমেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস বলেন, ভিডিওতে শোনা কণ্ঠটি মির জুমলা মিঠুর। তার দাবি, জামায়াতের কিছু বাহিরাগত লোক এলাকায় গিয়ে মারামারিতে জড়ায়, তাদের চিহ্নিত করে রাখতে বলা হয়েছিল।
নোয়াখালী-৩ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলু এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন।