বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ও কঠোর দমন-পীড়নে এই প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয়ই রয়েছেন বলে তিনি জানান। তবে, কতজন বিক্ষোভকারী এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।
এর বিপরীতে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানায়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীন সহিংস অভিযানে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই গণহত্যার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে একটি সামগ্রিক চিত্র দাঁড় করাতে কাজ শুরু করে তারা। দীর্ঘ ও বহুস্তর যাচাই-বাছাই শেষে জানানো হয়, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি—বৃহস্পতি ও শুক্রবার—টানা দুই রাতে সংঘটিত দমন-পীড়ন ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের দাবি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দুটি সূত্র, মাশহাদ, কেরমানশাহ ও ইসফাহানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর অভ্যন্তরীণ সূত্র, নিহতদের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক ও নার্সদের তথ্য মিলিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অভিযান ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরাসরি নির্দেশে তা পরিচালিত হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
ইরানে চলমান এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছে গভীর অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে। বিশ্লেষকদের মতে, গত অন্তত তিন বছরের মধ্যে এটি দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপও তেহরানের ওপর আরও বেড়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ মোকাবিলায় দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে। একদিকে, তারা অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ‘বৈধ’ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর দমন অভিযান চালাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে এবং তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।