বুধবার (১৩ মে) রাতে ‘মিনাব ১৬৮’ নামের বিশেষ বিমানে দিল্লিতে অবতরণ করেন আরাগচি। বিমানের এই নামটি প্রতীকীভাবে উৎসর্গ করা হয়েছে ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৬৮ জন স্কুলছাত্রীর স্মৃতির প্রতি।
মূলত ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতেই ভারতে এসেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সফরের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বসবেন তিনি।
দুই নেতার আলোচনায় প্রাধান্য পাবে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইস্যু। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সফরকালে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন আরাগচি।
এদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ব্রিকসের মতো শক্তিশালী জোটে ইরানের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ব রাজনীতিতে ন্যায়সংগত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
তেহরানের মতে, ব্রিকস জোট উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার আনার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতির বিপরীতে স্বাধীন বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান।
বর্তমানে ভারত ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় একটি সর্বসম্মত যৌথ বিবৃতি প্রণয়ন ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলাকে কেন্দ্র করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাম্প্রতিক বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা নিতে বর্তমান ব্রিকস সভাপতি হিসেবে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
সূত্র: এনডিটিভি