স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনার প্রায় ৩০ শতাংশে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত সন্দেহে ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো রোগীদের মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরা ওষুধের ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ করে জানান, প্যারাসিটামল ছাড়া অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা অনেক পরিবারের জন্য আর্থিকভাবে কষ্টসাধ্য।
সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, 'আমার ছেলে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ওষুধ দেয়া হয়নি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর।'
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, 'হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে সদর উপজেলাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।'