বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান বলেন, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাজধানী সহ সারা দেশে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল নরসিংদী জেলার মাধবদী এলাকা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ভূমিকম্পের পর থেকেই ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাগুলোর হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই আতঙ্কে ভবন থেকে লাফ দেওয়া, সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নামার সময় পড়ে যাওয়া কিংবা ভিড়ের চাপে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি হতাহত ভর্তি হয়েছেন। এখানে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন দ্বিতীয় বর্ষের এমবিবিএস শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলামও আছেন। আরও ১০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন আহত রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসকদের ধারণা আরও রোগী আসতে পারে।
ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোকেও চরম চাপ সামলাতে হচ্ছে। গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৭২ জন আহতের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ জন ভর্তি এবং ২৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৩ জনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে; ৬ জনকে উচ্চতর চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে এবং ১৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালেও পরিস্থিতি গুরুতর। এখন পর্যন্ত ৪৫ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি নিচে নামতে গিয়ে, সিঁড়িতে ধাক্কাধাক্কি বা ভিড়ের চাপে কিংবা ভবন থেকে লাফ দেওয়ার কারণে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্য খাত সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।