পবিত্র কোরআনে ঘোষণা হয়েছে, 'যখন পৃথিবীকে তার প্রকম্পনে প্রকম্পিত করা হবে, এবং সে তার অন্তর্গত বোঝা উগরে দেবে…'(সূরা যিলযাল, ৯৯:১-২)।
এ আয়াত প্রমাণ করে, ভূমিকম্প নিছক ভূ-বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়। এটি ইহকালীন সতর্কবার্তা ও পরকালীন জাগরণধ্বনি, যা মানুষকে তার অসহায়ত্ব এবং সৃষ্টিকর্তার অপরিমেয় মহিমা স্মরণ করিয়ে দেয়।
হাদিসে বর্ণিত আছে, যখন সমাজ নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হয়, তখন আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন বিপর্যয়ের মাধ্যমে তাদের সতর্ক করেন। ভূমিকম্প সেই সতর্কবাণীরই মহিমান্বিত প্রতিধ্বনি, যা মানবমনে বিনয়, অনুতাপ এবং আত্মশুদ্ধির প্রেরণা জাগিয়ে তোলে।
বিজ্ঞানের ভাষায় ভূমিকম্প টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ ও ভূ-অভ্যন্তরের শক্তিমুক্তির স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু ইসলামী দৃষ্টিতে, এই স্বাভাবিকতাও আল্লাহর নির্ধারিত মহাবিধানের অন্তর্গত। তিনি ইচ্ছা করলে শিক্ষা, পরীক্ষা কিংবা সতর্কতা হিসেবে মানবতার সামনে প্রকাশ করেন।
অতএব, প্রতিটি ভূকম্পন শুধু ভূপৃষ্ঠ নয়, মানুষের অন্তরলোকও নাড়িয়ে দেয়। যাতে, সে ফিরে তাকায় পরম করুণাময়ের দিকে, যাঁর ইচ্ছাতেই বিশ্ববিন্যাস স্থিত।
পরিশেষে ফরিয়াদ!
হে আল্লাহ, দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা ও কল্যাণ দান করুন। এবং বিপদ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
মুফতি ইসমাঈল আহমদ শামীম কাশিমপুরী
সাবেক ইমাম ও খতীব
বাইতুর রহমান জামে মসজিদ তেজি, লিবিয়া