১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা আতাউল্লাহ আমীনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গণসংযোগ চলাকালে তার নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির দাবি, আতাউল্লাহ আমীনের বাড়ি থেকে নারী ভোটারদের একত্রিত করে বোরকা, চাদর, কম্বল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে আতাউল্লাহ আমীনের বাড়ির সামনে কয়েকজন নারী কর্মী মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা প্রার্থীর বোন ও ভগ্নিপতির গায়েও হাত তোলেন। পরে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা বিএনপি। ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আতাউল্লাহ আমীনের বাড়ি থেকে ভোটারদের বোরকা, চাদর, কম্বল ও টাকা বিতরণ করে রিকশা প্রতীকের পক্ষে ভোট দিতে প্ররোচিত করা হচ্ছিল। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টির প্রতিবাদ জানালে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, 'নির্বাচনের আগে কোনো প্রার্থীর বাড়ি থেকে নগদ অর্থ বা সামগ্রী বিতরণ করা আচরণবিধির লঙ্ঘন। রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর পরিবারের সদস্যরাই এসব কাজে জড়িত ছিলেন।'
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ জানান, নারী কর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে কম্বল, চাদর, বোরকা ও টাকা বিতরণের মৌখিক অভিযোগও এসেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, আতাউল্লাহ আমীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব। তিনি এবারের নির্বাচনে রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ অঞ্চল) শরিফুল আলম।