বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ফেলার হুমকির অভিযোগে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কাটছাঁট করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সংযোজন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঋণখেলাপির দায়ে কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। এর আগে ফেসবুক পোস্টেও তিনি ভিডিওটি ‘কেটে প্রচার করা হচ্ছে’ বলে অভিযোগ তোলেন।
ভাইরাল ভিডিওতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে এবং ভোটাররা অন্য দলে ভোট দিলে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হবে—এমন বক্তব্য। ভিডিওতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ট্রাক প্রতীকে ভোট চাওয়ার কথাও শোনা যায়।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সঙ্গে উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আওয়াল খান বলেন, বক্তব্যটি মুন্সীর নিজের ইউনিয়নে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি নিজের এলাকায় কাজ করার প্রসঙ্গ টেনে ভোট চেয়েছেন। আওয়াল খানের দাবি, মুন্সী যে অংশে ভোট চেয়েছেন—‘এটাই মূল বক্তব্য’; কিন্তু ‘ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, মেরে ফেলা’—এই ধরনের কথাগুলো এআই দিয়ে সংযোজন করা হয়েছে, যা তার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেন, তিনি নিজের ইউনিয়নের মানুষের বিরুদ্ধে এমন হুমকি দিতে পারেন না। কারা ভিডিওটি বিকৃত করেছে তা তিনি জানেন না। তার ভাষ্য, বক্তব্যটি রাতে দেওয়া হয়েছিল এবং পরে সেটি এডিট করে প্রচার করা হয়েছে।
দাবির পক্ষে আওয়াল খান আরও বলেন, বক্তব্য দেওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এই সময়ের মধ্যে ভিডিওটি এডিট করে এআই দ্বারা সংযোজন করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
এর আগে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী লিখেছিলেন, গুনাইঘরের ধলাহাস পুকুরপাড়ে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে দেওয়া তার বক্তব্যের শেষাংশ কেটে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা–৪ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ (শাপলা কলি), বিএনপি জোট প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের মো. জসিম উদ্দিন (ট্রাক), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার (আপেল) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল করিম (হাতপাখা)।