আইআরজিসি জানায়, তাংসিরি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। তাকে সংস্থাটির অন্যতম অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, তাংসিরির বিরুদ্ধে ২০১৯ ও ২০২৩ সালে পৃথকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তিনি আইআরজিসি নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির তদারকি করতেন এবং সামরিক ড্রোন উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যক্রমেও তাংসিরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালিটি দিয়ে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তাংসিরির মৃত্যু এমন এক সময়ে নিশ্চিত করা হলো, যখন ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ তাকে “নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধা” হিসেবে উল্লেখ করে তার ছবি প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তার অনুপস্থিতি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌ-তৎপরতায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের এই শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যু বৃথা যাবে না এবং তার নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই কার্যক্রম চালানো হবে।
এদিকে, ইসরায়েলের এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। ইরান ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল স্থল বা আকাশপথে সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথেও এর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। তাংসিরির পর আইআরজিসি নৌবাহিনীর নেতৃত্বে কে আসবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান